মুখবন্ধ

মেশিন লার্নিং নিয়ে আজকাল বেশ হৈচৈ হচ্ছে। তবে মেশিন লার্নিংয়ের ধারণা কিন্তু মোটেও নতুন নয়, কয়েক দশক পুরনো। তবে প্রযুক্তির বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কম্পিউটার আজকে যেই কার্যক্ষমতা ও গতি লাভ করেছে, তা মেশিন লার্নিংকে দিয়েছে নতুন জীবন। তাই নানান ক্ষেত্রে বিশ্বব্যাপী মেশিন লার্নিংয়ের প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশ পিছিয়ে থাকবে কেন?

বাংলাদেশ অত্যন্ত জনবহুল একটি দেশ এবং বিষয়টা অনেকে এড়িয়ে গেলেও অস্বীকার করার উপায় নেই যে, জনসংখ্যা বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় সমস্যা। এই ছোট্ট একটা দেশে বিরাট জনসংখ্যার সমস্যা সমাধানে আমাদের যুক্তিবুদ্ধি যেমন প্রয়োগ করতে হবে, তেমনি প্রয়োগ করতে হবে মেশিন লার্নিং। মেশিন লার্নিংয়ের জন্য প্রয়োজন ডেটা, আর সেই ডেটা কিন্তু আমাদের কম নেই, কিংবা প্রয়োজনে সংগ্রহ করাও খুব কঠিন কিছু নয়। তাই মেশিন লার্নিংয়ের প্রয়োগের জন্য বাংলাদেশ একটি আদর্শ জায়গা। আর মেশিন লার্নিংয়ের গুরুত্ব কেবল সমস্যা সমাধানের জন্যই নয়, বরং সমস্যা চিহ্নিতকরণেও। আমাদের সমস্যা কী, সেটিই যদি আমরা না বুঝি, তাহলে সমাধান করব কিভাবে?

রকিবুল হাসান বেশ কিছুদিন ধরেই মেশিন লার্নিং নিয়ে কাজ করছেন, বিশেষ করে এর ব্যবহারিক দিক নিয়ে। তিনি তাঁর কাজের পাশাপাশি সবার জন্য বাংলা ভাষায় বিষয়টি নিয়ে নিয়মিত লেখালেখিও করছেন, জ্ঞানকে ছড়িয়ে দেবার উদ্দেশ্যে। সেই ধারাবাহিকতায় "হাঁটি হাঁটি পা পা পাইথনের মেশিন লার্নিং" নামক এই বইটি প্রকাশিত হচ্ছে। আমি লেখককে অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই।

মেশিন লার্নিংয়ের জগতে পাইথন একটি বহুল ব্যবহৃত টুল, সবচেয়ে জনপ্রিয় বললেও বাড়িয়ে বলা হবে না। তাই বাংলা ভাষায় এই বইটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। যারা মোটামুটি পাইথন প্রোগ্রামিং পারে এবং মেশিন লার্নিং নিয়ে আগ্রহী, তাদের জন্য বইটি উপযোগী। স্কুল-কলেজ পর্যায়ের গণিতের ওপর শক্ত ধারণা থাকলে আরো ভালো। তবে যারা পাইথন জানে না, তাদেরকে লেখক সংক্ষেপে পাইথনের সঙ্গে একটু পরিচয় করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাই বইটি অনেকেই পড়তে পারবে বলে আমি মনে করি।

আমাদের বেশিরভাগ শিক্ষার্থীর মেশিন লার্নিংয়ের প্রতি আগ্রহকে আমি হুজুগ বলব, কী শিখবে, কেন শিখবে, শিখে কী করবে এসব বিষয়ে পরিষ্কার ধারণা নেই। মোট কথা শেখার পেছনের দর্শনটা অনুপস্থিত। লেখক শুরুতেই সেই বিষয়ে আলোকপাত করেছেন, যেটি নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়।

আমি বইটির সাফল্য কামনা করছি। আশা করছি, লেখক তাঁর কাজ দিয়ে আরো অনেককে অনুপ্রাণিত করবেন এবং বাংলাদেশের মানুষ নিজেদের প্রয়োজনের কাজগুলো নিজেরাই করতে পারবে।

তামিম শাহরিয়ার সুবিন

গ্র্যাব, সিঙ্গাপুর